বাজার থেকে বিস্কুট, নুডলস, চিপস কিংবা কোমল পানীয় কেনার সময় প্যাকেটের পেছনের ছোট অক্ষরে লেখা পুষ্টিগুণের তথ্য পড়ার সুযোগ বা আগ্রহ সবার থাকে না। অথচ প্যাকেটের সামনেই যদি বড় ও স্পষ্ট সতর্কচিহ্নে লেখা থাকে ‘অতিরিক্ত চিনি’, ‘অতিরিক্ত লবণ’ বা ‘অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি’ তাহলে কয়েক সেকেন্ডেই পণ্যটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
প্যাকেটের সামনের অংশে এমন সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাই ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিং বা এফওপিএল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও প্রায় এক দশক ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) মোড়কাবদ্ধ খাদ্যের লেবেলিং নিয়ে নতুন প্রবিধানের খসড়া প্রকাশ করে। কিন্তু ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই সতর্কবার্তা এখনো প্যাকেটের সামনে দেখা যায়নি বরং খসড়াটি এখন কোন পর্যায়ে আছে, ৩০ জুন খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর কী হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
২৬ জানুয়ারির খসড়া থেকে মন্ত্রণালয়ে : গত ২৬ জানুয়ারি ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করে বিএফএসএ। অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ ফেব্রুয়ারি।
খসড়ার তফসিল-১-এ প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি, লবণ বা সোডিয়াম এবং সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে সতর্কতামূলক চিহ্ন ব্যবহারের প্রস্তাব রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, প্যাকেটের পেছনের জটিল পুষ্টিতথ্য বিশ্লেষণ না করেও একজন ভোক্তা যেন দ্রুত বুঝতে পারেন কোনো উপাদান অতিরিক্ত রয়েছে কি না।
১৫ ফেব্রুয়ারি মতামত গ্রহণ শেষ হওয়ার পর খসড়াটি নিয়ে আরও কাজ হয়। মার্চে এর একটি ‘হারমোনাইজড’ বা সমন্বিত সংস্করণ তৈরির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ৩০ জুন খসড়াটি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় বলে বিএফএসএর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েবের বক্তব্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়। অর্থাৎ বিএফএসএ পর্যায়ে খসড়া প্রণয়ন, মতামত গ্রহণ ও সংশোধনের পর বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু এরপরের প্রশাসনিক গতিপথ স্পষ্ট নয়। ফাইলটি এখন কোথায়? খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর খসড়াটি কোন পর্যায়ে পর্যালোচনা হয়েছে, অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থা এতে মতামত দিয়েছে কি না, অংশীজনদের প্রস্তাবের কতটা গ্রহণ করা হয়েছে, এসব তথ্য এখনো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ্যে আসেনি।
এ কারণে ২৬ জানুয়ারির মূল খসড়া, ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া মতামত, মার্চের সমন্বিত সংস্করণ এবং ৩০ জুন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সংস্করণ, এই চারটি ধাপ পাশাপাশি বিশ্লেষণ করা জরুরি। বিশেষ করে দেখতে হবে, এফওপিএলের বাধ্যতামূলক প্রয়োগের বিধান শেষ পর্যন্ত কী অবস্থায় রয়েছে। পাঁচ বছরের স্বেচ্ছামূলক বাস্তবায়নের প্রস্তাব কি বহাল আছে? ছোট প্যাকেটের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় রাখা হয়েছে কি না? সতর্কচিহ্নের আওতায় কোন কোন পুষ্টি উপাদান রাখা হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খসড়ার বিভিন্ন সংস্করণের তুলনাতেই মিলতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব ভোরের ডাককে বলেন, প্রবিধানমালার খসড়া প্রণয়ন ও টেকনিক্যাল কমিটির পর্যালোচনা শেষে গত ৩০ জুন ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এরপর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রয়োজনীয় কয়েকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিল্পখাতের পক্ষ থেকে প্যাকেজিং পরিবর্তন ও সরবরাহব্যবস্থা সমন্বয়ের জন্য দীর্ঘ সময় এবং একটি স্বেচ্ছামূলক বাস্তবায়নকাল চাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
ড. মোহাম্মদ শোয়েব আরও বলেন, খসড়াটি চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) নোটিফিকেশনের বিষয়টিও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে চূড়ান্ত অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
শিল্পপক্ষের আপত্তি : এফওপিএল নিয়ে খাদ্যশিল্পেরও বিভিন্ন আপত্তি ও প্রস্তাব রয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, নতুন লেবেলিং ব্যবস্থা চালু হলে প্যাকেটের নকশা পরিবর্তন, নতুন মোড়ক তৈরি, পুরোনো মোড়কের মজুত ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে শিল্পপক্ষের যুক্তি। ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ সতর্কতামূলক চিহ্নের পরিবর্তে ‘গাইডলাইন ডেইলি অ্যামাউন্ট’ বা জিডিএ ধরনের তথ্য দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। এ ছাড়া বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালুর আগে দীর্ঘ সময় স্বেচ্ছামূলকভাবে ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট চিঠিপত্র ও আলোচনার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর পর্যন্ত স্বেচ্ছামূলক বাস্তবায়নের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ বছরের স্বেচ্ছামূলক ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার এমন একটি ব্যবস্থা বাস্তবায়নে এত দীর্ঘ স্বেচ্ছামূলক সময়ের প্রয়োজন আছে কি না। তাঁদের যুক্তি, শিল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় ও কারিগরি সক্ষমতা বিবেচনা করা যেতে পারে; তবে দীর্ঘ স্বেচ্ছামূলক সময় যেন বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা কার্যকরের সময় পিছিয়ে দেওয়ার কারণ না হয়। অন্যদিকে শিল্পপক্ষের বক্তব্য, উৎপাদন ও মোড়কব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সময় ও অর্থ প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।
ছোট প্যাকেটের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন রয়েছে। শিল্পপক্ষের পক্ষ থেকে ছাড়ের প্রস্তাবের কথা জানা গেলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, প্যাকেটের আকার ছোট হলেও অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে ভোক্তাকে তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন কমে যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (উব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের পেছনে দায়ী বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। এই নীরব মহামারীর মোকাবিলায় দেশের বর্তমান প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ ভোরের ডাককে বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগের যে ভয়াল রূপ ও নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে আমাদের প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি এখনো যথেষ্ট নয়। প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির ব্যবহার রোধে ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং’ (এফওপিএল) চালুর দাবিকে কেবল একটি সাধারণ নিয়ম ভাবলে চলবে না; এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার এক অনিবার্য হাতিয়ার। তিনি আরও বলেন, অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন দেশের আনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হচ্ছে। যার ফলে জাতীয় অর্থনীতি ও এসডিজি অর্জনের লক্ষ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অথচ এফওপিএল নীতি বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা তালবাহানা সাধারণ মানুষকে না জেনেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই দেশের বর্তমান জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কোনো কালক্ষেপণ না করে, দ্রুত ও সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক বাধ্যতামূলক সতর্ক লেবেল নীতি কার্যকর করতে হবে।
জিডিএ নাকি সতর্কচিহ্ন? এফওপিএল নিয়ে বিতর্কের আরেকটি জায়গা হলো জিডিএ ও সামনের সতর্কচিহ্নের পার্থক্য। জিডিএ পদ্ধতিতে একজন ভোক্তাকে পণ্যে থাকা পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ দৈনিক প্রয়োজনীয় মাত্রার সঙ্গে তুলনা করতে হয়। এর জন্য কিছুটা পুষ্টিজ্ঞান ও সংখ্যাগত ধারণা প্রয়োজন। অন্যদিকে সামনের সতর্কচিহ্নের উদ্দেশ্য হলো তথ্যকে আরও সরল করা। বড় একটি প্রতীক বা সতর্কবার্তা দেখে ভোক্তা দ্রুত বুঝতে পারেন পণ্যটিতে নির্দিষ্ট কোনো উপাদান বেশি রয়েছে কি না। বাংলাদেশে পুষ্টি-সংক্রান্ত জ্ঞান ও খাদ্যলেবেল পড়ার অভ্যাস সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সমান নয়। এ কারণে সহজবোধ্য সতর্কবার্তা নিয়ে জনস্বাস্থ্য মহলে আগ্রহ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নও বড় : এফওপিএল নিয়ে এত আলোচনা শুধু প্যাকেটের নকশা পরিবর্তনের বিষয় নয়। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণের সঙ্গে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর বড় অংশই অসংক্রামক রোগের কারণে।
সাম্প্রতিক গবেষণাতেও প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের পুষ্টিগত ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে। ৯৭৪ জন মানুষের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ আগের সপ্তাহে অন্তত একটি প্রক্রিয়াজাত বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করেছিলেন। বিশ্লেষণ করা ১০৫টি খাদ্যপণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সোডিয়াম বেঞ্চমার্কের তুলনায় বেশি সোডিয়াম পাওয়া যায়। ফলে ভোক্তার সামনে সহজ ও বোধগম্য তথ্য দেওয়ার প্রশ্নটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
সামনে সতর্কচিহ্ন, পেছনে প্রশ্ন : এফওপিএল কোনো খাদ্যপণ্য নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা নয়। এর মূল উদ্দেশ্য ভোক্তাকে সহজে তথ্য দেওয়া, যাতে তিনি পণ্য কেনার বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরির আগে নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়াটিও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। ২৬ জানুয়ারি খসড়া প্রকাশ, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মতামত গ্রহণ, মার্চে সমন্বিত সংস্করণ এবং ৩০ জুন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর এখন প্রশ্ন, পরবর্তী ধাপ কোথায়?
খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ফাইলটি কোন পর্যায়ে আছে? কোন কোন মতামত গ্রহণ করা হয়েছে? পাঁচ বছরের স্বেচ্ছামূলক বাস্তবায়নের প্রস্তাব কি টিকে আছে? ছোট প্যাকেটের জন্য ছাড় রাখা হয়েছে কি না? ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে? আর বর্তমানে কোন সংস্করণটি চূড়ান্ত বিবেচনায় রয়েছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া এফওপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন। প্যাকেটের সামনে একটি সতর্কচিহ্ন হয়তো ছোট একটি পরিবর্তন। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে ভোক্তার তথ্যের অধিকার, খাদ্যশিল্পের বাস্তবতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধি এবং জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন। তাই এখন শুধু প্যাকেটের সামনে সতর্কবার্তা আসবে কি না, সেই প্রশ্ন নয়। আরও বড় প্রশ্ন হলো, যে নীতির মাধ্যমে সেই সতর্কবার্তা আসার কথা, সেই নীতির ফাইলটি বর্তমানে কোথায়?