গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণমাধ্যম সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে রাষ্ট্রের অন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিও শক্তিশালী থাকবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থে গণমাধ্যমকে সত্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য তুলে ধরতে হবে। কোনো বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ‘ফটোকার্ড’ তৈরি করে প্রচার করলে অনেক সময় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘কাটপিস—লেজ নাই, মাথা নাই, মাঝখান থেকে শুধু পেট উঠিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে মানুষ কনফিউজড হয়।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, কোনো গণমাধ্যমের ওপর অসংগত আচরণ হলে সেটিও সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। কোনো একটি গণমাধ্যম বিষয়টি প্রকাশ না করলে অন্য গণমাধ্যম যেন তা সামনে আনে। এতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কথা বলার সুযোগ তৈরি হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি সাংবিধানিক স্তম্ভ হলো সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত না হলেও গণমাধ্যমের প্রভাব অনেক বেশি। গণমাধ্যম ঠিক থাকলে রাষ্ট্রের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের অধিকার নিয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে কথা বলা হবে। সাংবাদিকদের নিজ নিজ সংগঠনের মাধ্যমে সমস্যাগুলো লিখিতভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। এতে সংসদে ও সংসদের বাইরে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন।
এ সময় দেশের চলমান সংকটের মধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করার ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ নানা সংকটে থাকলে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রয়োজনে কাজ করার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, বেতনের বিনিময়ে সংসদ সদস্য হতে যাননি। দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে তখন সবার সঙ্গে অংশীদার হতে আপত্তি থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে জামায়াতে ইসলামী সরকারি প্লট না নেওয়া এবং শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। পরে সংসদে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁরা সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। সরকারি ও বিরোধী দলের সবাইকে ‘শাসকের’ পরিবর্তে ‘সেবকের’ মানসিকতা নিয়ে কাজ করা উচিত।
সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে দেওয়া নোটিশ আলোচনার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশুদের ওপর সহিংসতা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা নোটিশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সাইফুল আলম খান মিলন, আব্দুর রব, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিনসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।