হাম ও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে হাম নিয়ন্ত্রণেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির এক জরুরি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে হামেও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। একের পর এক রোগে মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে হবে। বাড়াতে হবে জনসচেতনতাও। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে এসব কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় নগর ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
হাম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচি আরও কার্যকর করতে হবে। যেসব এলাকায় হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, মানুষের জীবন ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ডেঙ্গু ও হাম নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
জরুরি সভায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. জসিম উদ্দিন ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. শাহজাহান, ফখরুল আহসান শাহজাদা, শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য গোলাম মোস্তফা, আব্দুস সাত্তার, জিয়া উর রহমান বিপুল, সৈয়দ সিরাজুল আরেফিন মাসুমসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।৮