ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বর্তমান বিরোধীদলের কেউ জড়িত কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
রিজভী বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস-ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার পেছনে শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রয়েছে, নাকি বর্তমান বিরোধীদলেরও কেউ জড়িত—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন এবং বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।
রিজভী বলেন, যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লংমার্চ করছেন, তাদের এসব সহিংস ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়া উচিত।
জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময়ে সাড়ে চার শ গাড়ির বহর নিয়ে এমন কর্মসূচি জনগণের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। একই সঙ্গে এটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা ও স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, যারা ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও লংমার্চ করা উচিত।
জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এরপরও প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারকে ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। আর্থিক খাতে লুটপাট না করে সরকার পরিস্থিতি গোছানোর চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
তিনি আরও বলেন, এরপরও একটি দল সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত রয়েছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে দলটি আস্থা হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।