মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুলকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তারা আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় কী অভিযোগ
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর করা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এসব নির্যাতনের বিষয় মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। এরপর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি বাসায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়ম বসবাস করতেন।
মামলায় মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছিল।
যেভাবে মরদেহ উদ্ধার
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগেও আলোচনায় ছিলেন এমপি
এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে তখন সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয়।
এ ছাড়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলা করেছিলেন মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়। পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান।
এবার মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেই আসামি করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।