জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর পর এবার বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি উঠেছে। নতুন জ্বালানি মূল্যের প্রভাব পরিবহন খাতে কতটা পড়েছে এবং এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসভাড়া কী হারে পুনর্নির্ধারণ করা হবে—তা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে বাসমালিক-শ্রমিকসহ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
বৈঠকে মূলত জ্বালানি তেলের নতুন দামের কারণে বাস পরিচালনার ব্যয় কতটা বেড়েছে, পরিবহন খাতের অন্যান্য খরচের পরিবর্তন এবং তার ভিত্তিতে যাত্রীভাড়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে বৈঠক চললেও এখনো নতুন বাসভাড়া চূড়ান্ত হয়নি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী জুবায়ের মাসুদ বলেন, তেলের দাম বাড়ার কারণে বিআরটিএতে জরুরি বৈঠক চলছে। পরিবহন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামও বাড়ছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে তারা আশা করছেন।
বিআরটিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিবহন খাতের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বাসমালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, রোববার রাতে সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম হয়েছে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা লিটার।
সোমবার থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। এখন বিআরটিএর বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে যাত্রীদের বাসভাড়া বাড়বে কি না এবং বাড়লে কতটা বাড়বে।