স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলের টোল আদায় ব্যবস্থা সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ইন্টিগ্রেটেড টোলিং স্ট্র্যাটেজি’ বা সমন্বিত টোলিং কৌশল প্রণয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সেতু ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
বৈঠকে দেশের বিদ্যমান টোল আদায় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন (ETC), আন্তঃসংযোগযোগ্য টোলিং ব্যবস্থা, ক্যাশলেস লেনদেন এবং স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের ওপর।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন সংস্থার ব্যবহৃত টোলিং প্রযুক্তি, টোল আদায়ের প্রক্রিয়া, তথ্যের আন্তঃসংযোগ এবং ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত টোলিং প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সেতু বিভাগের সচিব বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে সমন্বিত টোলিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে টোল আদায় আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের স্মার্ট সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামোও শক্তিশালী হবে।
এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ‘ডেভেলপমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড টোলিং স্ট্র্যাটেজি ফর স্মার্ট রোড ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক’ শীর্ষক কারিগরি সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশে একটি টেকসই সড়ক টোলিং মডেল উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সেতুতে ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থা চালু করেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতুতে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নন-স্টপ ও ক্যাশলেস ETC সেবা চালু রয়েছে।
RFID-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনকে টোল প্লাজায় না থামিয়েই টোল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে এতে।
এ ছাড়া চলতি বছরের জুনে সেতু বিভাগে অনুষ্ঠিত এক স্টেকহোল্ডার সভায় দেশের সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলের বিভিন্ন ETC ব্যবস্থাকে একটি একক ও আন্তঃসংযোগযোগ্য নেটওয়ার্কের আওতায় আনার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হয়।
এডিবির ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশের বিদ্যমান টোলিং ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পর্যালোচনা করবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত টোলিং কৌশল প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুপারিশ দেবে সংস্থাটি।
সমন্বিত এই ব্যবস্থা চালু হলে সড়ক ব্যবহারকারীদের দ্রুত ও নির্বিঘ্নে টোল পরিশোধের পাশাপাশি টোল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।