স্বজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন খাদিজা বেগম (৫২)। একই দিনে পৃথক আরেক দুর্ঘটনায় বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ আরও দুজন নিহত হয়েছেন। দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।
সোমবার ভোরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাট-মালঞ্চা আঞ্চলিক সড়কে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স উল্টে খাদিজা বেগম নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতি।
নিহত খাদিজা বেগম বগুড়া সদর উপজেলার বানদিঘী ইসবপুর মহল্লার নুরুজ্জামান মণ্ডলের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদিজা বেগমের মেয়ে জান্নাতির শাশুড়ি কোহিনূর বেগম (৭০) অসুস্থ হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোববার রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ভোরে অ্যাম্বুলেন্সে কোহিনূর বেগমের মরদেহ নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন খাদিজা।
পথে শাজাহানপুর উপজেলার মাথইলচাপড় এলাকার আঞ্চলিক সড়কে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে খাদিজা বেগম নিহত হন এবং তার সঙ্গে থাকা তিনজন আহত হন।
অন্যদিকে, সকাল ৯টার দিকে বগুড়া শহরতলীর টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ দুজন নিহত হন। নিহতরা হলেন কাহালু উপজেলার রামপুর মহল্লার মজনু আকন্দের ছেলে সিএনজি চালক শফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আরাফাত হোসেন (১৭)।
পুলিশ জানায়, অজ্ঞাত একটি বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই শফিকুল ও আরাফাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। ঘাতক বাসটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ওসি রইচ উদ্দিন এবং শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল পৃথক দুই দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।