
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত এই পুরস্কার শুধু বিজয়ীদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা ও প্রতিভাকে কাজে লাগাতে তাদের যথাযথ উৎসাহ ও মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণরা যেন আরও বেশি অংশ নিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীদের সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নিয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনুক—সরকার সেটিই চায়।
অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে বই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়ার সময় তারা যে আয়াত তিলাওয়াত করেছিলেন, তাদের কণ্ঠে সেই তিলাওয়াতও শোনেন তিনি।
সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
বাংলাদেশের আরও তিন প্রতিযোগীও প্রতিযোগিতায় সাফল্য পান। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন। একইভাবে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।