আনিসুল হকের সম্পদের হিসাবেই চমক, ১৭২ কোটি ‘অবৈধ’—৭৩৭ কোটি লেনদেন সন্দেহজনক

জাতীয়

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক

2026-09-16T20:02:46+00:00
2026-09-16T20:02:46+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
আনিসুল হকের সম্পদের হিসাবেই চমক, ১৭২ কোটি ‘অবৈধ’—৭৩৭ কোটি লেনদেন সন্দেহজনক
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

মামলার অপর তিন আসামি হলেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক কলি, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং তার ‘কাজিন’ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইকবাল।

দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই তিনজন আনিসুল হককে অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন। এ কারণে তাদেরও মামলার আসামি করা হয়েছে।

দুদকের তদন্ত নথি অনুযায়ী, আনিসুল হকের বৈধ বা গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১৩ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৮ টাকা। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ২৯৮ টাকা। ব্যয় বাদে তার নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা।

অন্যদিকে আনিসুল হক ও অপর তিন আসামির নামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। গ্রহণযোগ্য নিট আয় বাদ দেওয়ার পর ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদকে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

দুদকের ভাষ্য, ২০০০ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে এসব সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে আনিসুল হকের নিজ নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অপর তিনজনের নামে পাওয়া সম্পদের পরিমাণ ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা।

এর মধ্যে জেবুন্নেসা বেগম হক কলির নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং বিএইচআইএস অ্যাপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদক জানিয়েছে।

এ ছাড়া ওই তিনজনের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ৭০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার থাকার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

দুদকের তদন্তে আনিসুল হক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এসব হিসাবে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জমা ও উত্তোলন মিলিয়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকা।

দুদকের দাবি, এসব লেনদেন অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক। দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের উৎস গোপন, রূপান্তর ও হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে এসব লেনদেন করা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তে সন্দেহ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

এজাহারে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্ত শেষে সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৬ কোটি ৪ লাখ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

এজাহারে ২৯টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য ছিল। তদন্ত শেষে ২৩টি হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের পরিমাণ ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি পাওয়া গেছে।

অভিযোগপত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

আনিসুল হক ২০১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দুদকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন আদালত। একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত তার ও সংশ্লিষ্টদের ২৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: