ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাস আড়াল করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেছেন, ডাকসুর ইতিহাস থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা মুছে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
আ স ম আবদুর রব বলেন, ইতিহাস পুনর্বিন্যাসের নামে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও প্রতীকগুলোকে আড়াল করে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হলে সেটি ইতিহাসের নির্মোহ উপস্থাপন হতে পারে না। বরং তা ইতিহাস বিকৃতির চর্চায় পরিণত হয়।
তিনি বলেন, ইতিহাস কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে না। ডাকসুর সংগ্রহশালা কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাস প্রদর্শনের জায়গা নয়; এটি বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া বক্তব্যের ছবিও রয়েছে, যেখানে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
রবের ভাষ্য, জিন্নাহর ওই বক্তব্য বাঙালির ভাষার অধিকার, আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের সংগ্রামের বিপরীত অবস্থানের একটি ঐতিহাসিক দলিল।
অন্যদিকে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতীক হলেও ডাকসুর সংগ্রহশালায় ওই ভাষণের কোনো ছবি স্থান না পাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আ স ম আবদুর রব বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ছাত্রসমাজের সংগ্রামের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না করে তার বিপরীত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন করা হলে তা ইতিহাসের ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন হবে না।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ইতিহাস মুছে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস তৈরির জন্য সংঘটিত হয়নি। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এর জন্ম।
তার মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর ইতিহাস পুনর্বিন্যাসের নামে এক পক্ষের স্মৃতি মুছে অন্য পক্ষের প্রতীক প্রতিষ্ঠা করা হলে সেটি ইতিহাসের মুক্তি নয়, বরং ইতিহাসের আরেক ধরনের রাজনৈতিক ব্যবহার।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে ডাকসুর সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ঘটনা ও ব্যক্তিত্বের ভূমিকা যথাযথ প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার আহ্বান জানান জেএসডি সভাপতি।