ভাষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে যার নাম ইতিহাসে বিতর্কিত, সেই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় স্থান পাওয়ায় এবার প্রকাশ্য প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন এক শিক্ষার্থী। ক্ষোভ আর প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সংগ্রহশালায় রাখা জিন্নাহর তিনটি ছবিই ছিঁড়ে ফেলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। তাঁর প্রশ্ন—যে জিন্নাহ বাঙালির মুখের ভাষাকে অস্বীকার করেছিলেন, সেই জিন্নাহর ছবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় ঠাঁই পায় কীভাবে?
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।
এ সময় তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের নায়কদের বাদ দিয়ে জিন্নাহর ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় কেন রাখা হয়েছে, তার জবাব প্রশাসন ও ডাকসু নেতাদের দিতে হবে।
আবু তৈয়ব বলেন, যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখা হয়?
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রক্ত দিয়েছে। তাই সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা আবুল কাসেমের পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের মতো ব্যক্তিত্বের ছবিও থাকা উচিত।
আবু তৈয়ব ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
সংগ্রহশালায় জিন্নাহর যে ছবি
সংস্কার শেষে রোববার ডাকসু সংগ্রহশালাটি নতুন করে চালু করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি না থাকলেও নতুন করে স্থান দেওয়া হয় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি।
এর একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া জিন্নাহর বক্তব্যের ছবি। ওই অনুষ্ঠানে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এ ছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবিতে জিন্নাহর উপস্থিতির ছবি এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের একটি পেপার কাটিংও সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছিল।
ছাত্রদলের প্রতিবাদ
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সোমবার সকালে সংগঠনটি অভিযোগ করে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও ‘পাকিস্তান প্রেম’ প্রকাশ করছে।
জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে ডাকসুতে রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।