ভারতের বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়গুলোর প্রচলিত রীতির পরিবর্তে অভিন্ন আইন চালুর এই উদ্যোগে বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রবিবার অমিত শাহ জানান, ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শাসনে থাকা ২১টি রাজ্যেই ২০২৯ সালের মধ্যে ইউসিসি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারতে ফৌজদারি আইন সবার জন্য অভিন্ন হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকারসহ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে ধর্মীয় সম্প্রদায়ভেদে আলাদা রীতি ও আইন প্রচলিত রয়েছে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তে সব নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালু করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য।
ইতোমধ্যে দেশটির অন্তত চারটি রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর হয়েছে।
কেন উদ্বেগ মুসলিমদের মধ্যে?
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর উদ্যোগকে ঘিরে মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নিজস্ব পারিবারিক রীতি অনুসরণের অধিকার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের আওতায় থাকা বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলোতে অভিন্ন আইন কার্যকর হলে ধর্মীয় বিধান ও প্রচলিত পারিবারিক আইনে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে ইউসিসির সমর্থকদের দাবি, এই আইন ধর্মভিত্তিক বৈষম্য কমিয়ে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তাদের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে বহুবিবাহের সুযোগ বন্ধ হবে, সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া মুসলিম নারীদের অধিকার আরও শক্তিশালী করবে।
বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠী
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের জনসংখ্যার বড় অংশ হিন্দু হলেও দেশটিতে প্রায় ২২ কোটি মুসলিম বসবাস করেন। জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশও ভারত।
ফলে দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের বিজেপি সরকারের পরিকল্পনা শুধু আইনি পরিবর্তন নয়, এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই