প্রেমিকাকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার পর বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে পাহাড়ে ফেলে আসার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন এক যুবক। চলন্ত বাইকে বস্তা থেকে রক্ত চুইয়ে পড়তে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় শনিবার দিবাগত রাতে নাকা চেকিংয়ের সময় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ও নিহত তরুণী উভয়ের বাড়ি পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায়। তরুণী নার্সিংয়ের ছাত্রী এবং যুবক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কাজের সূত্রে দুজনই পুরুলিয়া শহরের পৃথক মেসে থাকতেন। দীর্ঘদিনের প্রেম ও একই কোচিংয়ে পড়ার সুবাদে তাঁদের পরিচয় হলেও, সম্প্রতি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই শনিবার দুপুরে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়া তরুণীকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দি করে অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশি তল্লাশিতে ধরা পড়েন অভিযুক্ত যুবক। জেরায় তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার দুপুর থেকে তরুণীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তাঁরা খোঁজখবর শুরু করেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে গভীর রাতে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর দেয়। আটক যুবককে আদালতের সমক্ষে হাজির করার প্রক্রিয়াজুড়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।