জাতীয় নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই মানের অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় নির্বাচন কমিশন। দেশে ‘ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি’ চালু করার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের সময় পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশ দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বাংলাদেশ পুলিশ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
সিইসি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। একই সঙ্গে কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করাও পুলিশের আইনগত দায়িত্ব। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একই মানদণ্ডে সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রসঙ্গ তুলে সিইসি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে কমিশনের ওপর নষ্ট হওয়া আস্থার বড় একটি অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশ দেওয়া হবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আইন ও কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশ পুলিশ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আইজিপি আরও বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা মোকাবিলায় পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা এবং পুলিশের সদস্যদের পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সমন্বয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত রোডম্যাপ ও একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
এদিকে আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ১১৪টি ভেন্যুতে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে কনস্টেবল থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের প্রায় ৩৯ হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।