রাজধানীর পশ্চিমাংশের জনপদ কামরাঙ্গীরচর দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, সরু সড়ক, অপরিকল্পিত স্থাপনা আর ময়লা-আবর্জনার স্তূপসহ অন্যতম অবহেলিত জনপদ হিসেবে পরিচিত। তবে সেই চিত্র বদলিয়ে এলাকাটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি)। আগামী ৫ বছরের মধ্যে পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক সড়কব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে এ এলাকাটি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার আশা করছেন স্থানীয়রা। এতে আনন্দিত এলাকার বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর পূর্ব ও উত্তর অংশের তুলনায় দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত কামরাঙ্গীরচরকে আধুনিক নগর ব্যবস্থার আওতায় আনার এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বড় প্রত্যাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে একসময়ের অবহেলিত এলাকাগুলোতে তৈরি হতে পারে উন্নত সড়ক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আধুনিক নাগরিক সেবার নতুন বাস্তবতা। কারণ ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী। সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক সড়কে পানি জমে যায়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। এর সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং যানজটে ভোগান্তিতে রয়েছে স্থানীয়রা।
দক্ষিণ সিটির নতুন পরিকল্পনায় এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থা এবং ফুটপাত ও জনপরিসর উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাটির সামগ্রিক চেহারা বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর উন্নয়নবঞ্চিত থাকার কারণে কামরাঙ্গীরচরের মানুষের জীবনযাত্রায় নানা সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন করে উন্নয়নকাজ শুরু হলে তাদের ভোগান্তি দূর হবে। তবে এ উদ্যোগ যেন শুধু প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি চান তারা।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করলেই কামরাঙ্গীরচর আধুনিক শহরে পরিণত হবে না। পরিকল্পিত আবাসন, খোলা জায়গা, হাঁটার পথ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন, গণপরিবহন এবং নাগরিক সেবাকে সমন্বিতভাবে উন্নত করতে হবে। একই সাথে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও দখল ঠেকানোও জরুরি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে রাজধানীর পশ্চিমাংশের এই জনপদটি শুধু বসবাসের উপযোগীই হবে না, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন স্থানীয় মানুষের জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখার দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিতে হবে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ সিটি। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা, খাল-নালা ও ড্রেন দখলমুক্ত রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে আধুনিকায়নের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। অবহেলা আর দুর্ভোগের পরিচিত চিত্র পেছনে ফেলে কামরাঙ্গীরচর এখন নতুন নগর বাস্তবতার দিকে এগোবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়নকাজ শেষ হলে একসময়কার অবহেলিত এই জনপদই হয়ে উঠতে পারে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বসবাসযোগ্য ঢাকার একটি নতুন উদাহরণ। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে ভুগছি আমরা। বিশেষ করে সরু ও ভাঙাচোরা সড়ক, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় আমাদের। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ফলে এলাকাটি পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আধুনিক হলে আমরা স্বাচ্ছন্দে বসবাস করতে পারবো। আগামী ৫ বছরের মধ্যে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরকে একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত শহরে রূপান্তরিত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। কামরাঙ্গীরচরের নতুন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, পৃথিবীর বহু শহর একসময় ময়লা-আবর্জনায় বিপর্যস্ত হলেও পরবর্তীতে সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুন্দর করে গড়ে তোলা হয়েছে। কামরাঙ্গীরচরের সূচনা প্রতিকূল পরিবেশে হলেও সবার সহযোগিতা ও সঠিক মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে এটিকে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করা সম্ভব।