জুলাই আন্দোলনে আহত এক ব্যক্তিকে সরকারি সুবিধার ৩ লাখ টাকার চেক দেওয়ার আগে এর ৫০ শতাংশ অর্থ দাবি এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে করা মামলার আবেদন তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে জুলাইযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন এ মামলার আবেদন করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে গিয়াস উদ্দিন বলেন, জুলাইযোদ্ধা হিসেবে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যান। চেক না পেয়ে পরে বাংলামোটরের এনসিপি কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর তাকে ফাউন্ডেশনে গেলে চেক দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৩ মে চেক নিতে ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে গেলে তাকে বলা হয়, ৩ লাখ টাকার চেকের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা দিলে তিনি চেকটি ব্যাংক থেকে নগদায়ন করে নিতে পারবেন।
গিয়াস উদ্দিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন আসামি তাকে ধরে মারধর করেন। একপর্যায়ে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে রডের সঙ্গে মাথায় আঘাত লেগে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। এ সময় চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে তাকে ফের মারধর করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরে তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রেখে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে তার ছেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।
ঘটনার পর থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি এবং সময়ক্ষেপণ করেছে বলে অভিযোগ করেন গিয়াস উদ্দিন। পরে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশের পর এখন অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করবে সিআইডি। তদন্তে অর্থ দাবির অভিযোগ, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগসহ মামলায় উত্থাপিত অন্যান্য বিষয় যাচাই করা হবে।
মামলার আসামিরা হলেন, ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সিআইডির তদন্তের পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে।