দীর্ঘদিন ধরে রুপালি পর্দা থেকে দূরে রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। অভিনয়ে ফেরার গুঞ্জন থাকলেও এবার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। জানিয়েছেন, জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে চান এবং আল্লাহ-খোদার নাম নিয়েই বাঁচতে চান।
পপির এমন বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি দীর্ঘ অভিনয়জীবনের ইতি টানতে চলেছেন তিনি?
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান ভাবনা ও জীবন নিয়ে কথা বলেন পপি। সেখানে অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে তার অনাগ্রহের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
পপি বলেন, সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। আল্লাহ-খোদার নাম নিতে চাই।
নিজের অতীতের দিকে ফিরে অভিনেত্রী আরও বলেন, যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।

পপির এমন বক্তব্যের পর তার ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকা এই তারকা আদৌ আর ক্যামেরার সামনে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
এর আগে ২০২৫ সালে পপি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরলে ভালো কোনো কাজের মাধ্যমেই ফিরতে চান। তবে ২০২৬ সালে এসেও চলচ্চিত্রে তার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি।
সাদিকা পারভীন পপির চলচ্চিত্রজীবনের শুরু ১৯৯৭ সালে। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে দুই হাজারের দশকে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা ও পর্দায় উপস্থিতির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন পপি। বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি বিভিন্ন গল্পনির্ভর ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন পপি। অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। ফলে ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বইয়ের দশকের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা করে নেন তিনি।
সময়ের সঙ্গে দেশের চলচ্চিত্রের পরিবেশ ও নির্মাণের ধরনে পরিবর্তন আসে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের আগমনসহ নানা কারণে বড় পর্দায় পপির উপস্থিতিও ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
তবে অভিনয় থেকে তিনি পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মাঝেমধ্যেই তার চলচ্চিত্রে ফেরার খবর সামনে এসেছে। ভক্তরাও অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় অভিনেত্রীকে আবারও পর্দায় দেখার জন্য।
পপির ব্যক্তিজীবন বরাবরই অনেকটা আড়ালে ছিল। অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর তার বিয়ে ও সংসারজীবন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা খবর ও গুঞ্জন ছড়ায়।
পরবর্তীতে জানা যায়, তিনি এক পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। তার ছেলের নাম আয়াত।
নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে বরাবরই তুলনামূলক নীরব থেকেছেন পপি। ফলে তার পারিবারিক জীবন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালে পপি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরলে যেকোনো কাজ দিয়ে নয়, ভালো কোনো কাজের মাধ্যমেই ফিরতে চান।
তার সেই বক্তব্যে ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরবেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
কিন্তু এরপরও তার নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
এবার কি সত্যিই পর্দায় ইতি?
সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে পপির বক্তব্যে অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। জীবনের বাকি সময়টা সুন্দরভাবে কাটানো, আল্লাহ-খোদার নাম নেওয়া এবং অতীতের ভুলত্রুটি থেকে নিজেকে মুক্ত করার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে তিনি সরাসরি আর কখনো অভিনয় করবেন না—এমন ঘোষণা দিয়েছেন কি না, সেটি আলাদাভাবে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তার বক্তব্য মূলত অভিনয়জগতের চেয়ে এখন শান্তি ও সৃষ্টিকর্তার স্মরণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্রজীবনে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেওয়া পপি এখন জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন। তার সাম্প্রতিক কথাবার্তায় অন্তত এটুকু স্পষ্ট—ক্যামেরার আলো কিংবা তারকা খ্যাতির চেয়ে জীবনের এই পর্যায়ে শান্তি ও সৃষ্টিকর্তার স্মরণই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।