একদিনেই নিভল দুই সিনেমা হলের আলো!

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন

সিনেমা হল সংকট যেন কাটছেই না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পুরোনো প্রেক্ষাগৃহ। কোথাও হলের জায়গায়

2026-08-29T15:21:39+00:00
2026-08-29T15:21:39+00:00
  সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
বিনোদন
একদিনেই নিভল দুই সিনেমা হলের আলো!
বিনোদন ডেস্ক
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সিনেমা হল সংকট যেন কাটছেই না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পুরোনো প্রেক্ষাগৃহ। কোথাও হলের জায়গায় উঠছে বহুতল ভবন, কোথাও জায়গাটি ব্যবহার হচ্ছে অন্য ব্যবসায়িক কাজে। এবার একই দিনে বন্ধ হয়ে গেল কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী ‘মধুমতি’ ও রংপুরের দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘শাপলা টকিজ’।

দুই প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হওয়ায় দেশের দুই অঞ্চলের সিনেমাপ্রেমীরা হারালেন পুরোনো দুটি বিনোদনকেন্দ্র। এর মধ্যে ভৈরবের মধুমতি ভেঙে ফেলার কাজও শুরু হয়েছে।

ভৈরবে শেষ সিনেমা দেখাল ‘মধুমতি’

একসময় ভৈরব শহরে ছিল চারটি সিনেমা হল, ‘ছবিঘর’, ‘পলাশ’, ‘মধুমতি’ ও ‘দর্শন’। সময়ের সঙ্গে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে ‘ছবিঘর’ ও ‘পলাশ’। ‘ছবিঘর’-এর জায়গায় এখন শপিং সেন্টার, আর ‘পলাশ’-এর জায়গায় তৈরি হয়েছে আবাসিক ভবন ও কিন্ডারগার্টেন।

এরপর ভৈরবে টিকে ছিল ‘মধুমতি’ ও ‘দর্শন’। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এসব হলে দর্শকদের ভিড় জমত। শুধু ভৈরব নয়, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও সিনেমা দেখতে আসতেন এখানে।

তবে সেই চিত্র এখন অতীত। গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে ‘মধুমতি’। এরই মধ্যে প্রেক্ষাগৃহটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

বন্ধ হওয়ার আগে ‘মধুমতি’তে সর্বশেষ প্রদর্শিত হয় সাইফ চন্দন পরিচালিত সিনেমা ‘মালিক’।

হল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের কারণে প্রেক্ষাগৃহটি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। লোকসানের পাশাপাশি দেনাও বাড়ছিল। গত দুই ঈদে ব্যবসার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। শেষ পর্যন্ত হলটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রায় পাঁচ দশক পর বন্ধ হলো রংপুরের  ‘শাপলা টকিজ’

ভৈরবের পাশাপাশি একই দিনে বন্ধ হয়ে গেছে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘শাপলা টকিজ’। ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রেক্ষাগৃহটি প্রায় পাঁচ দশক ধরে উত্তরবঙ্গের সিনেমাপ্রেমীদের বিনোদনের অন্যতম ঠিকানা ছিল।

২০০৬ সাল থেকে হলটি ভাড়ায় পরিচালনা করে আসছিলেন কামাল হোসেন। তাঁর দাবি, ২০৩২ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও মালিকপক্ষ সিনেমা হল হিসেবে জায়গাটি আর চালাতে আগ্রহী নয়। ফলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হল বন্ধ করতে হয়েছে তাঁকে।

কামাল হোসেন বলেন, ‘২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হলটি পরিচালনা করছি। এ পর্যন্ত চারবার তাঁদের সঙ্গে চুক্তিনামা নবায়ন করেছি। কিন্তু এবার আমার চুক্তির মেয়াদ থাকলেও তার আগেই আমাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।’

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মূল মালিকের উত্তরসূরিরা ওই জায়গায় সিনেমা হলের পরিবর্তে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করতে চান। এ কারণে দীর্ঘদিনের প্রেক্ষাগৃহটি বন্ধ হয়ে গেছে।

হলটির শেষদিকে দর্শকসংখ্যাও কমে গিয়েছিল। গত সপ্তাহে পুরোনো সিনেমা ‘বলব কথা বাসর ঘরে’ প্রদর্শন করা হলেও দর্শকের উপস্থিতি ছিল সীমিত।

একের পর এক হল বন্ধ, উদ্বেগ চলচ্চিত্র অঙ্গনে

একদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুরোনো সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে হল টিকিয়ে রাখার নানা উদ্যোগের কথা বলছে চলচ্চিত্র অঙ্গন।

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠন মিলে এরই মধ্যে নতুন একটি সংগঠনের যাত্রা শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করা এবং দেশের সিনেমা শিল্পকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া।

তবে দর্শক টানার মতো নিয়মিত ও মানসম্মত সিনেমার অভাব, দীর্ঘদিনের লোকসান এবং হল আধুনিকায়নের ধীরগতিতে প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসা ক্রমেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

ভৈরবের ‘মধুমতি’ ও রংপুরের ‘শাপলা টকিজ’ বন্ধ হয়ে যাওয়া তাই শুধু দুটি হলের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঘটনা নয়; এটি দেশের পুরোনো সিনেমা হলগুলোর টিকে থাকার সংকটকেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে।


Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: