সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা? ফের সামনে সেই প্রশ্ন

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। নতুন করে

2026-08-30T15:22:12+00:00
2026-08-30T15:22:12+00:00
  সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
বিনোদন
সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা? ফের সামনে সেই প্রশ্ন
বিনোদন ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২২ পিএম 
চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ফাইল ছবি
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। নতুন করে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার (৩০ আগস্ট) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান।

পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই শাহ আলম বিষয়টি জানিয়েছেন।

মামলায় সামীরা হক ছাড়াও আসামি করা হয়েছে তাঁর মা লতিফা হক লিও, চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদকে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

সম্প্রতি এ মামলায় আলোচনায় আসেন আশরাফুল হক ডন। গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেদিনই কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করেন। পরে আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যেভাবে আবার তদন্ত শুরু

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম গত বছরের ২০ অক্টোবর মামলাটি করেন।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনে নিজের ফ্ল্যাট থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।

সালমান শাহর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি।

আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেখানে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন তাঁর বাবা। এরপর ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সেখানেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।

এরপর ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে মামলাটি র‌্যাবের কাছে তদন্তের জন্য যায়। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পর ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট র‌্যাবকে তদন্ত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন আদালত। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জব্দ আলামত পর্যালোচনা করে সালমান শাহকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সালমান শাহর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা বিষয়ও উঠে আসে। তবে ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট হননি তাঁর মা।

আবারও গড়াল আদালতে

২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

এরপর সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশনের আবেদন করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন।

সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে নতুন করে তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়।

দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তাঁর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে নতুন করে ময়নাতদন্তের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

গত ২০ মে তদন্ত কর্মকর্তা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। ২৪ মে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করলে আদালত সেটি নথিভুক্ত করেন।

পরে গত ২২ জুন সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে দেহাবশেষ উত্তোলন প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়। সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করেন। সেই আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।

এখন নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।


Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: