হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এদিকে ডেঙ্গুও ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুই রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬১ জন এবং নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ৩৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগ, যেখানে মারা গেছেন ১৪৮ জন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৪, বরিশালে ৫১, খুলনায় ৩৩ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনের শরীরে।
একই সময়ে নতুন করে ৭০ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে নিশ্চিত হাম শনাক্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭৯৬ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, যদিও শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
এদিকে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৪২ জন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ২৩ জন রয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৯০ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৮৮ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩০ হাজার ৪২২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭ এবং জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন।
মৃত্যুর ক্ষেত্রেও জুন থেকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। জানুয়ারিতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি। এরপর জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফলে একদিকে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।