দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাম-সংক্রান্ত রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৮৬৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগে ৮৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৯৫৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জনে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন।
ডেঙ্গুতেও বাড়ছে রোগী
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৮৬৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগীসহ হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ২৪৮ জনে।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৬৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯৮ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৫০ জন, বরিশালে ১১০, চট্টগ্রামে ১০৯, খুলনায় ২০৫, ময়মনসিংহে ৩৮, রাজশাহীতে ৭৩ এবং রংপুরে ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব রাখছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের।
গত বছরও ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রায় ১ লাখ মানুষ।