চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসায় অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনিকা মন্ডলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কনিকা মন্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘ডাক্তারের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।’ নিহতের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সরকার এই পরিবারের পাশে থাকবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় কনিকা মন্ডলের পরিবারের হাতে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বালিয়াকান্দির বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল (৩৫) গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. লক্ষী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই তাঁর পেট ফুলে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। একই দিন অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়।
এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে মারা যান কনিকা মন্ডল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সফরকালে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হকসহ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।