নওগাঁর রাণীনগরে সরকারি খাসজমি থেকে অনুমতি ছাড়া পাঁচটি মেহগনি গাছ কাটার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাছ কাটার প্রায় ১৮ দিন পার হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত নোটিশ দিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ২ নম্বর কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল গ্রামের হালদারপাড়া রাস্তা সংলগ্ন প্রায় ছয় শতাংশ খাসজমি সরকারি লিজ নিয়ে ভোগদখল করছেন স্থানীয় কামরুল ইসলাম নিলু। গত ৬ আগস্ট ওই জমির পুকুরপাড়ে থাকা পাঁচটি মেহগনি গাছ অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলোর বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে ভূমি অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার কাজ বন্ধ করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিনের নির্দেশে কেটে ফেলা গাছগুলো উদ্ধার করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নিয়ে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গাছ কাটার ঘটনার পর প্রায় ১৮ দিন পার হলেও ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অভিযুক্ত নিলুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি চক্র বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নিলু স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন।
কামরুল ইসলাম নিলু বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে খাসজমি ও পুকুরটি ভোগদখল করে আসছেন। গাছগুলোও তাঁরাই রোপণ করেছিলেন। তাই প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই গাছগুলো কেটেছেন। পরে প্রশাসনের লোকজন এসে নিষেধ করায় গাছ কাটা বন্ধ করেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসন গাছগুলো নিয়ে যায়। তবে তিনি এখনো প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো লিখিত নোটিশ পাননি।
তিনি আরও জানান, খাসজমির কাগজপত্র করে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ছয় মাস আগে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নিলু জমিসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন বলেন, গাছ কাটার খবর পাওয়ার পর লোক পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়। পরে কেটে ফেলা গাছগুলো উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। সময়ের স্বল্পতার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। দ্রুতই তাঁকে আইনগত নোটিশ দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানও গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সরকারি খাসজমির গাছ কাটার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।