কক্সবাজারের উখিয়ায় রাতের আঁধারে ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করে প্রায় ৮০ শতক জমির ধানের চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমিটি জবরদখলের চেষ্টা ও বাধা দিলে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মসজিদের ইমাম মওলানা মনজুর আলম। এ ঘটনায় তিনি উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী রহমতেরবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, থাইংখালী রহমতেরবিল এলাকার বিএস খতিয়ান নং-৮১০-এর অন্তর্ভুক্ত ১২৩৬, ১২৩৫ ও ১২৪০/৩৮৮০ দাগের ৮০ শতক নাল জমি মওলানা মনজুর আলম ও তাঁর ভাইদের নামে খরিদা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। প্রায় দেড় মাস আগে জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়।
মনজুর আলমের অভিযোগ, জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও অনুষ্ঠিত হয়। তবে সালিশের পরও জমি দখলের হুমকি দেওয়া অব্যাহত ছিল।
অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মো. শাহজাহান, আব্দুল মান্নান, ছৈয়দ আলম ও নুরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন ধারালো দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা জমিতে রোপণ করা ধানের চারা উপড়ে ফেলে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন বলেও অভিযোগ করেছেন মনজুর আলম। পরে তিনি নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান বলে দাবি করেন। অভিযুক্তরা জমি জবরদখল করে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রায় ৮০ শতক জমির ধানের চারা নষ্ট করায় তাঁর আনুমানিক ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগে স্থানীয় চারজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ, ধানের চারা নষ্ট, জমি দখলের চেষ্টা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মওলানা মনজুর আলম বলেন, আমি ছোট একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমার ভোগদখলীয় জমির ধানের চারা নষ্ট করায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, “অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”