রাষ্ট্র সংস্কার ও ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কার্যক্রম সফল করতে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের পাশাপাশি সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মীর স্বার্থ রক্ষায় সরকার নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে দৈনিক জনতা পত্রিকার ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংবাদপত্রের মালিকরা যাতে নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারেন এবং সেই বিনিয়োগ লাভজনক প্রক্রিয়ায় যেতে পারে, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে সম্পাদক, সাংবাদিক, ছাপাখানার কর্মীসহ গণমাধ্যম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সবার স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করবে।
সাংবাদিকতার মূলনীতি তুলে ধরে সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা। একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রশ্নকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, যত বেশি প্রশ্ন করা হবে, সরকার তত বেশি জবাবদিহির মাধ্যমে জনগণের কাছে নিজের দায়বদ্ধতা ও কর্মকাণ্ড পরিষ্কার করার সুযোগ পাবে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আগের সরকারের দীর্ঘ মেয়াদের ভুল জ্বালানি নীতি, অপরিকল্পিত প্রকল্প ও অনিয়মের কারণে দেশ একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এসব সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীত সরকারের রেখে যাওয়া সংকট ও শাসনব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব থেকে জনগণকে মুক্ত করতে বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনগণের আস্থা রয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন মতের প্রকাশ ঘটতে হবে। বিভিন্ন মত ও তথ্যের মধ্য থেকেই বস্তুনিষ্ঠ সত্য বেরিয়ে আসবে, এটাই স্বাধীন গণমাধ্যমের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ যেমন থাকতে হবে, তেমনি অতীতের ফ্যাসিবাদের সমর্থকরা যাতে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ না পায়, সে বিষয়েও গণমাধ্যমকে সচেতন থাকতে হবে।
দৈনিক জনতার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি সৈয়দ এম আলতাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম।
সভা সঞ্চালনা করেন দৈনিক জনতার সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন। এতে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহসিন হোসেন ও সাবেক সভাপতি বুলবুল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে দৈনিক জনতার সম্পাদক-প্রকাশকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।