ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আগামী সপ্তাহে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে। তাঁর দাবি, এই চাপ কার্যকর হলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন কমতে পারে।
এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ এবং দেশটিকে সহায়তা করা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প জানান, কোনো দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে সহায়তা করলে তাদেরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
বেসেন্ট বলেন, সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের বিস্তারিত জানানো হবে। তাঁর ভাষায়, ইরানের ওপর অবরোধের পাশাপাশি ‘ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের কথাও বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।
সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বাণিজ্যিক জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করে এগুলোকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরানের দাবি, এসব চাপ ইরানের স্বাধীনতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্পে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ইরানের তেল রপ্তানির বড় অংশের ক্রেতা চীন। ইরানকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার কারণে চীনের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, এ বিষয়ে অনেক আলোচনা প্রকাশ্যে না করাই ভালো।
এদিকে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ কোনো সমস্যার সমাধান করে না। তারা কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই ওয়াশিংটন এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স