বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে অবৈধভাবে দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ২৩ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। মঙ্গলবার রাতে পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য সান বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের কাছে দেহব্যবসার সেবা পৌঁছে দিচ্ছিল একটি চক্র। গ্রাহকদের কাছ থেকে সেবার ধরন ও সময় অনুযায়ী ২০০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত নেওয়া হতো।
গোপন তথ্য পাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ নজরদারি চালিয়ে মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জালান কুচাই লামার একটি আবাসিক ভবন এবং জালান গেলুগরের একটি বাণিজ্যিক ভবনে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে মিয়ানমারের তিন পুরুষসহ মোট ২৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। আটক নারীদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি, ১৪ জন ইন্দোনেশীয়, দুজন ভিয়েতনামের এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কারও কাছেই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ কাগজপত্র ছিল না।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, একজন বাংলাদেশি পুরুষ ও একজন থাই নারী চক্রটির মূল পরিচালনাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। তারা নারীদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় একটি মালয়েশীয় নাগরিকেরও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি অভিযানে ব্যবহৃত দুটি স্থানের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। ওই তিন ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আবাসিক ভবনে ৬০ মিনিটের জন্য ২০০ রিঙ্গিত এবং বাণিজ্যিক ভবনে ৯০ মিনিটের জন্য ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত নেওয়া হতো। গত প্রায় দুই মাস ধরে এই কার্যক্রম চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
আটকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।