
বুধবার রাতে কলকাতার এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে আবু জাফরকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক দুজনের একজন পাশের ‘যাপন’ নামের একটি হোটেলের কর্মী। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা কী, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে হোটেলের ভেতরের অংশ। পরে আগুন আশপাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের চেয়ে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক অতিথি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সংকীর্ণ গলির মধ্যে অবস্থিত ভবনটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও ছিল অত্যন্ত সরু। ফলে নিরাপদে বের হতে গিয়ে সেখানে ব্যাপক হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর হোটেলটির কাছেই হওয়ায় দ্রুত চারটি অগ্নিনির্বাপক গাড়ি সেখানে পাঠানো হয়। তাদের সঙ্গে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া অনেকেই ধোঁয়ায় অসুস্থ কিংবা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর বাইরে থেকে বড় ধরনের আগুনের শিখা খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। বরং ভবনটির ভেতর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে হোটেলের ভেতরে আটকা পড়া অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই হোটেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ভবনের অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের আওতায় এনেছে কলকাতা পুলিশ।
ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তারের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হোটেল পরিচালনায় কোনো ধরনের অবহেলা বা নিয়মভঙ্গ ছিল কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক মালিক বীরেশ্বর মিত্রের সন্ধানেও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।