ভারতের মধ্যপ্রদেশে দুই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে পানির বোতলে মূত্র মিশিয়ে পান করানোর অভিযোগ উঠেছে একই শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও অভিযোগের গুরুত্ব না দিয়ে তিনি দুই ছাত্রীকে চকলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার অ্যারন উন্নয়ন ব্লকের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একই শ্রেণির এক ছাত্র পানির বোতলে মূত্র মিশিয়ে দুই ছাত্রীকে সেই পানি পান করায়। পরে বিষয়টি তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানায়। কিন্তু অভিযোগের প্রতিকার না করে প্রধান শিক্ষক তাদের ১০ টাকার চকলেট কিনে খেতে বলেন। এতে নাকি খারাপ লাগা কমবে এমন কথাও তিনি বলেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয়ে জড়ো হন। তাঁরা অভিযুক্ত ছাত্র এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের ফটকে তালাও লাগিয়ে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেওয়া হয়।
গুনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার কান্যাল বলেন, দুই ছাত্রী অভিযোগ করেছে—কয়েকজন শিক্ষার্থী পানির বোতলে মূত্র মিশিয়ে তাদের পান করিয়েছে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হলে তাঁর কাছ থেকে অমানবিক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, প্রাথমিকভাবে একই শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ছাত্র ও তার মা-বাবাকে তলব করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়িত থাকতে পারে বলেও কর্তৃপক্ষের সন্দেহ রয়েছে।
অ্যারনের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) মঞ্জুষা খাত্রী জানান, ঘটনার পর তহসিলদার ও ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।