সংসদ সদস্যদের ভোটে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা

রহমান মল্লিক

জাতীয়

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ

2026-08-20T21:05:19+00:00
2026-08-20T21:05:19+00:00
  শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬,
৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
সংসদ সদস্যদের ভোটে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা
রহমান মল্লিক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটিই ছিল প্রথম পরোক্ষ নির্বাচন ছিল। এসময় আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত করেছিল এবং বদরুল হায়দার চৌধুরীকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত করেছিল। ওই সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে আব্দুর রহমান বিশ্বাস পান ১৭২ ভোট ও বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৯৯১ সালের ১০ই অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।  এটি ছিল ২০২৬ সালের বাংলাদেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয় এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ আগামী শুক্রবার বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শপথের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সরকারী দল বিএনপির মনোনয়নের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলম যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সেটি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তবুও একটি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা শুরু হওয়ায় এটিকে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় ভালো উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ মহল। যেখানে নির্বাচন সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকা প্রয়োজন। ৯০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যদিও দলীয় প্রার্থীর বাইরে ভোট দেবার বিধান নেই তবুও সংসদীয় ধারাকে অনুসরণ করে চলেছে সরকারি ও বিরোধী দল। আর বিরোধী দলের প্রার্থী ঘোষণাও সবাই ইতিবাচক বলে মনে করেছে। সংবিধানের ৯০ অনুচ্ছেদ আগামীতে বহাল থাকবে কিনা তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যে ৯০ অনুচ্ছেদ পরবর্তীতে সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।   

এবারের নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এর আগে ১৩ আগস্ট বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তাঁর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয় এবং ১৬ আগস্ট কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটের এই আয়োজনকে দেশের গণতান্ত্রিক ধারার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদীয় রাজনীতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: