অতিরিক্ত কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সম্মেলন কক্ষে গভর্নিং বডির ষষ্ঠ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষকদের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক ও জৈব সার সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে মাটি, পানি, পরিবেশ ও মাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গবেষণার পরিধিও আরও বিস্তৃত করতে হবে।
মাংস উৎপাদনের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ খাতে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হলে ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলারের মাংস ও মাংসজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সরকার পুরস্কৃত করছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক উৎসের মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অভয়াশ্রম স্থাপনসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মাটির গুণগত মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, ভূগর্ভস্থ পানি, সার কিংবা পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে মাটিতে ভারী ধাতুর মাত্রা বাড়ছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করা জরুরি।
তিনি জানান, দেশের অনেক এলাকায় মাটির পিএইচ বর্তমানে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫-এর মধ্যে রয়েছে। অথচ ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে থাকা প্রয়োজন। মাটির গুণগত মান উন্নত করা গেলে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভায় গবেষণার ফলাফল জাতীয় নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বিএআরসির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশনাও দেন তিনি।
এ ছাড়া কৃষকদের প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ সহজে পৌঁছে দিতে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপকে আরও জনপ্রিয় করার আহ্বান জানান তিনি। কৃষকরা যাতে উৎপাদনসংক্রান্ত পরামর্শ সহজেই পেতে পারেন, সে জন্য অ্যাপটির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং বিএআরসির গভর্নিং বডির কো-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন জাত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবনও জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সদস্য, কৃষি ও মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।