ফুটবলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়েদের স্বপ্নযাত্রা

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

খেলা

সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও নানা সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রমিলা ফুটবল দল।

2026-08-18T13:43:30+00:00
2026-08-18T13:43:30+00:00
  বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
খেলা
ফুটবলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়েদের স্বপ্নযাত্রা
জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন, প্রয়োজন উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও নানা সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রমিলা ফুটবল দল। ফুটবলকে শুধু খেলা নয়, আত্মপরিচয় ও নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন তারা।

প্রতিদিন সকাল-বিকেল মাঠে চলে দৌড়, শরীরচর্চা, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, ড্রিবলিং, শুটিং ও গোলকিপিংয়ের অনুশীলন। প্রচণ্ড রোদ কিংবা ক্লান্তিও তাদের থামাতে পারছে না। খেলোয়াড়দের স্বপ্ন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় দলে খেলা।

খেলোয়াড় নিবেদিতা রানী মাহাতো ও বর্ষা মাহাতো বলেন, ‘ফুটবল আমাদের কাছে শুধু খেলা নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন। লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন করছি। ভালো প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা পেলে একদিন বড় পর্যায়ে খেলতে চাই।’

প্রিথা মাহাতো ও মোহনা উরাও বলেন, তাদের একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড় জাতীয় দলসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মতো তারাও জাতীয় পর্যায়ে খেলতে চান। এ জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া সরঞ্জাম ও অনুশীলনের সুযোগ চান তারা।

সুষমিতা রানী মাহাতো ও সঞ্চীতা উরাও বলেন, উন্নতমানের ক্রীড়া সরঞ্জাম, অনুশীলনের উপযোগী মাঠ, পুষ্টিকর খাবার ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়ানুরাগীরা সহযোগিতা করলে তাদের স্বপ্নপূরণের পথ সহজ হবে।

দলের প্রশিক্ষক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রমিলা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক নিহারঞ্জন বলেন, ২০১০ সাল থেকে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। বর্তমানে একাডেমিতে ৬০ জন খেলোয়াড় রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নিমগাছি হাইস্কুল মাঠে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক খেলোয়াড় জাতীয় দলসহ দেশের বিভিন্ন বড় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী ও নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে তারা আরও ভালো করতে পারবে।

স্থানীয়দের মতে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়েদের ফুটবলে অংশগ্রহণ এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তাদের দেখে অন্য মেয়েরাও খেলাধুলায় আগ্রহী হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়েদের ফুটবলে আগ্রহ ও প্রতিভা প্রশংসনীয়। তাদের প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে এসব তরুণী ফুটবলার একদিন রায়গঞ্জের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের নামও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে উজ্জ্বল করবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।



Loading...
Loading...

খেলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: