ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রিকেটীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক তিক্ততা কাটিয়ে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
সোমবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে ১৩টি ক্রীড়া ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে কাজ চলছে। এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশন এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
ক্রীড়া ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় বাংলাদেশ। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মাটিতে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের পথ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় নিয়েও কথা বলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ দলের সাফল্যকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তাদের অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়ে আগ্রহী। জাতীয় দল দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
ক্রীড়াঙ্গনের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে ইতোমধ্যে ২৭টি ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বাকি ফেডারেশনগুলোর কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চলছে এবং শিগগিরই নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আসন্ন সেপ্টেম্বরের এশিয়ান গেমসের দল ও কর্মকর্তাদের অ্যাক্রিডিটেশন নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই দল ও কর্মকর্তাদের নাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিবকে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় ক্যারম, জিমন্যাস্টিকস, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, উশু, রোয়িং, খো খো, হ্যান্ডবল, জুডো, ফেন্সিং, ভারোত্তোলন, অ্যামেচার রেসলিং ও রাগবিসহ ১৩টি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।