জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আদালতের উদ্দেশে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক বলেন, ‘আমি শুধু ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করি। কোনো চালাকির কাছে নয়।’
এদিন মামলায় অষ্টম সাক্ষী হিসেবে এক শিক্ষার্থী সাক্ষ্য দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর বেঞ্চে সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
জবানবন্দিতে ওই শিক্ষার্থী জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি আন্দোলনে অংশ নেন। ৫ আগস্ট দুপুর ২টার পর শেখ হাসিনার পতনের খবর পাওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে রাজধানীর উত্তরায় বিজয় মিছিলে অংশ নেন তিনি। ওই সময় তাঁর চোখের সামনে কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেছেন বলেও জানান সাক্ষী।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জবানবন্দিতে একটি সংশোধনী আনতে চায় প্রসিকিউশন। এ সময় আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এর বিরোধিতা করেন পলক।
ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এ মুহূর্তে কোনো সংশোধনী না নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। খুব সুন্দরভাবে সাক্ষ্য সম্পন্ন করেছে প্রসিকিউশন। মাননীয় আদালতও মূল্যবান সময় দিয়েছেন। অতএব আমার অনুরোধ, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আর কোনো সংশোধনী যেন না নেওয়া হয়।’
এরপরই ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা করেন, কোনো চালাকির ওপর নয়।
পরে পলকের পক্ষে সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন তাঁর আইনজীবী লিটন আহমেদ। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মার্জিনা রায়হান, মামুনুর রশিদ ও আবদুল্লাহ আল নোমান।
মামলাটিতে জুনাইদ আহমেদ পলক ছাড়াও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আসামি করা হয়েছে। পলাতক থাকায় জয়ের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মনজুর আলম আইনি লড়াই করছেন।