ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে সামরিক চাপ সামলাতে এশিয়া থেকে নিজেদের শেষ বিমানবাহী রণতরীও সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন এখন মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হবে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। এর ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী থাকবে না।
এমন পরিস্থিতিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এশিয়া থেকে সামরিক মনোযোগ সাময়িকভাবে সরে যাওয়ায় অঞ্চলটির মিত্রদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানের মেয়াদ আগেই বাড়ানো হয়েছিল। জাহাজটিতে থাকা নৌসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক গ্রেগ পোলিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে সামরিক মোতায়েনের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের মধ্যে ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে এবং চীন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর অনুপস্থিতিকে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারে চীন এমন আশঙ্কাও করছেন বিশ্লেষকরা।
হাডসন ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্ক বলেন, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে চীন তাইওয়ানে হামলা চালাবে। তবে পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে।
এদিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ফ্রাঙ্ক ব্র্যাডলি গত বৃহস্পতিবার ম্যানিলায় ফিলিপাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে তিনি জানান, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া আরও জোরদার করতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর দাবি, বিশ্বের যেকোনো স্থানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সক্ষমতা আবার অন্য অঞ্চলে মোতায়েন করা সম্ভব হবে।
ফলে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যের পথে যাত্রা একদিকে ইরান সংঘাতে মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।
সূত্র: এপি