সিলেটের ওসমানীনগরে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ ও সংঘাতের মধ্যে উমরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জরিফ হোসেন ওরফে আছান খাঁকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ।
গত ১৪ আগস্ট রাতে র্যাব ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আছান খাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁও গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আছান খাঁ ও তার ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাজী নুর হোসেনের পক্ষের সঙ্গে শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ডজন মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় কেউ কারাভোগ করেছেন, আবার অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, গুলিবর্ষণ ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করেও এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের অভিযোগ, পুলিশের অভিযান প্রতিহত করতে আছান খাঁ তার অনুসারীদের গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, গত জুলাই মাসে লন্ডনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে আছান খাঁ দেশে ফেরার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, বিভিন্ন বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
চলতি মাসেও আছান খাঁর নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র ক্যাডারদের বিরুদ্ধে একাধিক বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্র জানায়, সর্বশেষ যৌথ অভিযানে আছান খাঁকে গ্রেফতার করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সিকন্দরপুর পশ্চিম এলাকা থেকে তার পক্ষের দুই ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ আটক করেছিল যৌথ বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০১৩ সালে আছান খাঁর পক্ষের লোকজনের গুলিতে প্রতিপক্ষ শফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই গফফার নিহত হন। পরবর্তীতে শফিকুল ইসলামকে ফাঁসাতে তার পক্ষের লোক কুদ্দুসকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও ওঠে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আছান খাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।