রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহবধূ ফেরদৌসী আক্তার মেরী হত্যা মামলায় এক যুগ পর তার স্বামী মো. আব্দুর রহিমকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এলিনা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরার পর স্ত্রী মেরীর সঙ্গে রহিমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেরী তাকে ধমক দিলে রহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর এবং গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে খাটের ওপর ফেলে মুখ চেপে ধরার অভিযোগও ওঠে। পরদিন সকালে মেরীর মরদেহ খাটের ওপর পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে মেরীর মা হাসিনা বেগম মেয়ের স্বামী রহিম ও তার বাবা-মাকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
তবে তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার কথা জানিয়ে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এর বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন মেরীর মা।
পরে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক খান তদন্ত শেষে রহিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার বাবা-মাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় আব্দুর রহিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তার পক্ষে তিনজন সাফাই সাক্ষ্য দেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদালত তাকে খালাস দেন।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শরীফুল ইসলাম লিটব। তিনি জানিয়েছেন, আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।