রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সংসদে ভোট দিতে পারবেন না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কবে ঘোষণা করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিষয়টি জানা যাবে।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট গণনা এবং ফলাফল প্রস্তুতের কার্যক্রমও ফল ঘোষণা পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে মোট ৩৪৯ জন ভোটার রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হলে ব্যালট গণনা শেষে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তবে কোনো ভোট দেওয়া বাকি থাকলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং সংসদ সচিবালয় তাঁদের প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।