সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদ ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরোধের পর প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তারা।
রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও পথচারী।
শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী নিহত হয়। দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে যান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হন। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এর প্রতিবাদে রোববার সকালে শিক্ষার্থীরা গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ নিরাপদ সড়ক পারাপারের দাবি জানান।
অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঢাকা ও গাজীপুরের পাশাপাশি মহাসড়ক ব্যবহার করে চলাচলকারী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের সারি তৈরি হয়।
পরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে যান। তাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছেড়ে ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
আলোচনায় শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইয়াসিন আলীর পরিবারকে আগামী তিন দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে। একই সময়ের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগের অগ্রগতিও দৃশ্যমান হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। আমাদের আসার খবর পেয়ে তোমরা মহাসড়ক থেকে সরে এসেছ। তোমাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার জানান, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় স্পিডব্রেকার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান প্রশাসনের আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মাদ্রাসার ভিপি মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস নিইনি, তাদের কথায় বিশ্বাস রেখেছি। আমরা আশাবাদী, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে এবং দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করবে। তা না হলে আমরা আরও তীব্র আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
প্রশাসনের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে দীর্ঘ সময়ের অবরোধের কারণে তৈরি হওয়া যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগে।