দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতার পর অবশেষে পুনরায় শুরু হলো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের বহুল প্রত্যাশিত ফোরলেন সড়কের নির্মাণকাজ। প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে সড়কটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
হিলি জিরোপয়েন্ট থেকে চারমাথা হয়ে মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
জানা গেছে, সড়কটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালে থমকে যায়। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় হিলি স্থলবন্দর এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বন্দরের পণ্যবাহী ট্রাক, স্থানীয় যানবাহন ও দূরপাল্লার পরিবহন চলাচলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, হিলিবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে। হিলির অসমাপ্ত উন্নয়নকাজগুলো শেষ করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এই সড়কের কাজ শুরু তারই অংশ।
তিনি বলেন, ফোরলেন সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হলে হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বর্তমানে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি আগের তুলনায় বেড়েছে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, হিলি স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, হিলি স্থলবন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হয়। ফলে বন্দরের পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি স্থানীয় ও দূরপাল্লার যান চলাচলের কারণে জিরোপয়েন্ট থেকে চারমাথা ও মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যানজট লেগেই ছিল।
তিনি বলেন, ফোরলেন সড়কের কাজ শেষ হলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি স্থলবন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন পর সড়কের কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
তাদের মতে, হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। ফোরলেন সড়ক চালু হলে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে। এতে হিলির ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান, হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পীসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।