দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এবার তাঁর গুলশানের বাসায় গিয়ে দেখা করলেন চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী সুচন্দা ও চম্পা। দুই বোনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আড্ডা, স্মৃতিচারণ ও গানে মেতে ওঠেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে ইলিয়াস কাঞ্চনের গুলশানের বাসায় যান সুচন্দা ও চম্পা। সঙ্গে ছিল ফুলের তোড়া ও উপহার। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইলিয়াস কাঞ্চন। অসুস্থতার ক্লান্তি ছাপিয়ে তাঁর মুখে ফুটে ওঠে হাসি।
প্রায় রাত ৯টার দিকে ছেলে জয় তাঁকে শোবার ঘর থেকে বসার ঘরে নিয়ে আসেন। সেখানে সুচন্দা ও চম্পাকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তিনি। কথার শুরুতেই চম্পা বলেন, ‘আমরা আপনাকে ভালোবাসি।’ জবাবে ইলিয়াস কাঞ্চনও ভালোবাসার কথা জানান। এরপর দুই হাত ছড়িয়ে মজার ছলে বলেন, ‘এতটা ভালোবাসি।’ তাঁর কথায় হাসিতে ভরে ওঠে ঘর।
আড্ডায় উঠে আসে চলচ্চিত্রজীবনের নানা স্মৃতি। বিশেষ করে সুচন্দা প্রযোজিত ‘তিনকন্যা’ সিনেমার প্রসঙ্গও আসে। পুরোনো দিনের নানা ঘটনা নিয়ে কথাবার্তা ও হাসি-ঠাট্টায় সময় কাটে সবার।
একপর্যায়ে সুচন্দা ও চম্পার অনুরোধে গান ধরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। গেয়ে শোনান ‘অচেনা’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘আর যাব না আমেরিকা’। গান চলার সময় তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান সুচন্দা ও চম্পা। পরে আরও কয়েকটি গান পরিবেশন করেন তিনি।
ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে দেখা করতে এদিন চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও কয়েকজনও তাঁর বাসায় যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেতা সুব্রত, জ্যাকি আলমগীর, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে জয় চৌধুরী ও আবীর চৌধুরী।
চম্পা এ সময় সঙ্গে করে নিয়ে আসা জমজমের পানি ইলিয়াস কাঞ্চনকে পান করান। পাশাপাশি কয়েকটি পাঞ্জাবি উপহার দেন তাঁকে। লন্ডনে ফেরার সময় সেগুলো সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধও করেন চম্পা।
প্রায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে আড্ডা। বিদায়ের সময় সুচন্দা বলেন, দীর্ঘদিন পর এমন আনন্দঘন সময় কাটাতে পেরে তারা খুব খুশি। ইলিয়াস কাঞ্চনও আড্ডাটি উপভোগ করেছেন বলে জানান তিনি। দ্রুত তাঁর সুস্থতার জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুচন্দা।
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন কাঞ্চন
গত ৩ আগস্ট যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরোটা সরানো সম্ভব হয়নি। পরে তাঁকে ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।
অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় ধরে কেমোথেরাপি ও ওরাল থেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর থেকেই চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীরা একে একে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেছেন।
এর আগে তাঁর গুলশানের বাসায় গিয়ে দেখা করেন অভিনেতা আলমগীর, রোজিনা, আনোয়ারা, আনোয়ারার মেয়ে মুক্তি, দিতির মেয়ে লামিয়া চৌধুরীসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেকে।
তবে সুচন্দা ও চম্পার সঙ্গে শনিবার রাতের আড্ডাটি ছিল একটু ভিন্ন। দীর্ঘ অসুস্থতার সময় পেরিয়ে সেই রাতে ইলিয়াস কাঞ্চনের কণ্ঠে গান, মুখে হাসি আর সহকর্মীদের সঙ্গে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণে যেন ফিরে এসেছিল বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের উষ্ণতা।