সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি জানান, বিশেষ করে নেপালের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নেপালের কাঠমান্ডুর ধুমবারাহিতে অবস্থিত ন্যাশনাল কলেজে অনুষ্ঠিত ‘Applied Psychology: Behavioural Science Advancement’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ক্রস-কালচারাল ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাইব্রিড মডেলে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের গবেষক, মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং আড়াই হাজারের বেশি কলেজ নিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রায় ৫০টি বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের অনেক শিক্ষার্থী মানসিক আঘাত ও ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষ কাউন্সেলিং ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্তসংখ্যক পেশাদার মনোবিজ্ঞানী গড়ে তোলা সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না করে টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
উপাচার্য আরও বলেন, দেশে বর্তমানে কাউন্সেলিং, অ্যাপ্লাইড ও সোশ্যাল সাইকোলজিস্টের তীব্র সংকট রয়েছে। বর্তমান চাহিদা পূরণে অন্তত ৩০ হাজার মনোবিজ্ঞানী প্রয়োজন হলেও কর্মরত আছেন মাত্র প্রায় ৩০০ জন। এ সংকট দূর করতে প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে কাউন্সেলিং সেবা চালু এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ মনোবিজ্ঞানী তৈরির উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ, একাডেমিক বিনিময় এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। পাশাপাশি শিগগিরই মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন।
তিনি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়সহ নেপালের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্কভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত স্কলারশিপের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান, কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অচ্যুত ওয়াগল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।