ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, পরিচয়পত্র যাচাই এবং প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখা।
বুধবার (৫ আগস্ট) সরকারি ছুটির কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। কেন্দ্রীয় ও উন্মুক্ত লাইব্রেরি বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় বই ও গবেষণাসামগ্রী ব্যবহার করতে না পেরে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উন্মুক্ত লাইব্রেরি বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, সরকারি ছুটির কারণে আগের নিয়ম অনুসারেই দুই লাইব্রেরি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, সরকারি ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকা স্বাভাবিক। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বিবেচনায় ক্যাম্পাসে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ভেতরে কোনো সংগঠনকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখা ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, প্রশাসন ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনে বাধা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস-সংক্রান্ত তিন দফা দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সংঘর্ষ হয়। পরে পরিস্থিতি ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত গড়ায়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন এবং ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ী করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের বৈষম্য না করারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।