বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এর মধ্যে রয়েছে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি, জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ, সংবিধান সংস্কারের দাবিতে চার বিভাগে লংমার্চ এবং আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত গণসমাবেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করা হবে।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ৬ আগস্ট সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে এবং পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। একই দিনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে জোট।
এ ছাড়া সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আগামী মাসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেট বিভাগমুখী লংমার্চ আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর রুটে লংমার্চ হতে পারে। খুলনা রুটের সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং সিলেট রুটে ট্রেনমার্চের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটগতভাবে করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পাশাপাশি ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার এবং সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ধারাবাহিক জনসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।