জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তিন বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম (রাজশাহী) বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনেক তথ্য প্রকল্পের বাস্তবতা ও কারিগরি প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেবিচক জানায়, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো তিনটি বিমানবন্দরের রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধি, রানওয়ে ওভারলে, রানওয়ে সাইড স্ট্রিপ উন্নয়ন, এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন। ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচলের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা (Security) উন্নয়ন প্রকল্পটির আওতাভুক্ত নয়।
বেবিচকের ভাষ্য, বিমানবন্দরগুলো বহু বছর আগে সীমিত পরিসরের জমিতে নির্মিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী Runway End Safety Area (RESA) ও রানওয়ে সাইড স্ট্রিপ সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নেই। অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ বর্তমান প্রকল্পের আওতায় না থাকলেও ভবিষ্যতে সরকারি অর্থায়নে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
রানওয়ের উঁচু-নিচু অবস্থা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে বেবিচক জানায়, অপারেশনাল বিমানবন্দরে উন্নয়নকাজ চলাকালে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্দেশনা অনুযায়ী অস্থায়ী র্যাম্প নির্মাণ করা হয়। ফলে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় সামান্য ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্মাণ পদ্ধতির অংশ। চূড়ান্ত কাজ শেষ হলে পুরো রানওয়ে একই সমতলে চলে আসবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় পুরোনো রানওয়ে লাইটিং ব্যবস্থা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক নির্মাণ পদ্ধতি অনুযায়ী ভারী নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই স্থায়ী লাইটিং স্থাপন করা হবে। বর্তমানে এ-সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোর অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা হচ্ছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭৬ শতাংশ। যশোর বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিয়মিত উড্ডয়ন কার্যক্রম এবং সীমিত NOTAM সময়সীমার কারণে কাজের গতি তুলনামূলক কম হলেও ২০২৭ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ শেষ হবে।
অগ্নিনির্বাপণ যানবাহন ক্রয়ের বিষয়ে বেবিচক জানায়, প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে যানবাহন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যয় এড়িয়ে সরকারি অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করা যায়।
এ ছাড়া প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি—প্রতিবেদনের এমন দাবি সঠিক নয় বলেও জানিয়েছে বেবিচক। সংস্থাটির দাবি, এ ধরনের কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। একই সঙ্গে অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও প্রমাণাদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।