গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল, শিপমেন্ট বিলম্বে রপ্তানিতে শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

বাণিজ্য

তীব্র গ্যাস সংকটে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার শত শত তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে

2026-07-31T20:49:00+00:00
2026-07-31T20:49:00+00:00
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
বাণিজ্য
গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল, শিপমেন্ট বিলম্বে রপ্তানিতে শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
তীব্র গ্যাস সংকটে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার শত শত তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর বয়লার সচল না থাকায় ফিনিশিং, ডাইং, আয়রন ও প্যাকেজিংয়ের মতো উৎপাদনের শেষ ধাপগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের রপ্তানি আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, আশুলিয়ার জামগড়া, কাঠগড়া, জিরাবো, নরসিংহপুর, বেরুন, শিমুলতলা, পলাশবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, বাইপাইল ও জিরানী এলাকার বহু কারখানায় গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে উৎপাদনের গতি কমে গেছে। কোথাও শ্রমিকরা কাজ শুরুর অপেক্ষায় বসে আছেন, আবার কোথাও সীমিত পরিসরে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে বয়লারে প্রয়োজনীয় তাপ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কাপড় ধোয়া, শুকানো, প্রেসিং ও ফিনিশিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো আটকে যাচ্ছে। এতে উৎপাদনের পুরো চক্রেই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, উৎপাদনের বেশির ভাগ কাজ শেষ হলেও বয়লার চালানো না গেলে পণ্য প্যাকিং করে বন্দরে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। সময়মতো শিপমেন্ট দিতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের জরিমানা গুনতে হতে পারে, এমনকি ভবিষ্যতের ক্রয়াদেশও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের ওপরও। নির্ধারিত সময়ে কারখানায় উপস্থিত হলেও অনেক শ্রমিককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ শুরুর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আশুলিয়ার শত শত কারখানা থেকে প্রতিদিন ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। তাই উৎপাদনে সামান্য ব্যাঘাতও পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা গেলেও এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার এই সময়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশের সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকে যেতে পারেন। একবার ক্রেতা হারালে তা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন।

এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংকটের কারণ চিহ্নিত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

শিল্পমালিক, শ্রমিক ও রপ্তানিকারকদের দাবি, দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে সচল রাখতে শিল্পাঞ্চলে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, প্রতিটি বিলম্বিত দিন উৎপাদন, শিপমেন্ট এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।


Loading...
Loading...

বাণিজ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: