২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কাছে সংসদ সদস্যদের (এমপি) তালিকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার তালিকা হাতে পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ও তফসিল নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ বা তফসিল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা পাওয়ার পর কমিশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা অংশ নেন না। এই নির্বাচনের ভোটাধিকার কেবল জাতীয় সংসদের সদস্যদের হাতে থাকে। ফলে সংসদ সদস্যদের সঠিক ও হালনাগাদ তালিকা নির্বাচন কমিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই তালিকার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং পরবর্তী সব আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে অনেকেই একটি নিয়মতান্ত্রিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। কারণ রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তাই ভোটের তারিখ ঘোষণার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে ধাপে ধাপে।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, এ বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তবে এখনো তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়নি এবং কার্যপরিধি (এসওপি) নির্ধারণের কাজ চলছে। অসঙ্গতি এড়াতে বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
তিনি বলেন, জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন যাচাইয়ে বাস্তবসম্মত তথ্যের সঙ্গে সব নথির মিল থাকতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এক আবেদনকারীর চাওয়া জন্মতারিখ অনুযায়ী দেখা যায় তিনি সাত বছর বয়সেই ভোটার হয়েছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসি সচিব আরও বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্যকে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে পাসপোর্ট একটি ভ্রমণসংক্রান্ত নথি, যা এনআইডির তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।