রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় ব্যবহৃত খাবারের প্লেটে কুকুরের উচ্ছিষ্ট খাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। খাবারের প্লেট এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় রাখায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবহৃত প্লেট ও থালাবাসন ধোয়ার স্থানের বাইরে খোলা জায়গায় রাখা রয়েছে। সেখানে দুটি কুকুর প্লেটে লেগে থাকা খাবারের উচ্ছিষ্ট চেটে খাচ্ছে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাফেটেরিয়ার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর। ব্যবহৃত প্লেট ও থালাবাসন খোলা স্থানে ফেলে রাখা হয়, ফলে কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণী সেগুলোতে মুখ দেয়। পরে সেগুলো যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয় কি না, তা নিয়েও তাদের সন্দেহ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, কুকুর মুখ দেওয়া প্লেটে খাবার খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে কোনো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে এর দায়ভার কে নেবে?
এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার এজেন্ট আনিসুল হক বলেন, আজ বৃহস্পতিবার। সামনে দুই দিনের ছুটি থাকায় কর্মচারীরা ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন। সে কারণে প্লেটগুলো সাময়িকভাবে বাইরে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সব প্লেট গরম পানি দিয়ে পুনরায় ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।
কুকুরের মুখ লাগানো প্লেট ব্যবহারে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. এ. এম. এম. শাহরিয়ার বলেন, কুকুরটি যদি কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে, তাহলে তার মাধ্যমে জীবাণু মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে পেটের সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে প্লেট যথাযথ নিয়মে ধুয়ে ও জীবাণুমুক্ত করা হলে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক চার্লস ডারউইনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক নিয়মিত অফিসে আসেন না। অফিসে এলেও আধা ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার বেশি অবস্থান করেন না। প্রয়োজনের সময় ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায় না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কুকুর মুখ দেওয়া প্লেট বা বাসনপত্র যথাযথভাবে পরিষ্কার না করা হলে সেখানে জীবাণু থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমি এবং উপাচার্য স্যার দুই-একবার ক্যাফেটেরিয়া পরিদর্শন করেছি। তখন পরিচালনাকারীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থীবান্ধবভাবে ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি তা নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে পরিচালনায় পরিবর্তন আনা হবে।
পরিচালকের নিয়মিত অফিসে না আসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্লাসে থাকলে তিনি অফিসে নাও থাকতে পারেন। তবে ফোনে কেন তাকে পাওয়া যায় না বা তিনি কেন ফোন ধরেন না, সে বিষয়ে আগামীকাল তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলব।