ভারতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আরও তীব্র হয়েছে আন্দোলন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারী ও বিরোধীরা সেই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি, ঘটনার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ছাড়া তারা আন্দোলন থেকে সরবে না। একই অবস্থানে রয়েছে বিরোধী দলগুলোও। তারা জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সংসদে নিট ইস্যুতে কোনো আলোচনা হবে না।
লোকসভার কংগ্রেস সদস্য কে সি বেনুগোপাল বলেন, বিরোধী নেতারা স্পিকার ওম বিড়লাকে জানিয়েছেন- ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা না হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবেন না। ফলে শিক্ষার্থী আন্দোলনের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনও তৈরি হয়নি।
তবে বিরোধীদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়নি আম আদমি পার্টি (আপ) ও ডিএমকে। বেনুগোপাল জানান, এই দুই দল ছাড়া অন্য বিরোধী দলগুলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে একমত হয়েছে।
এদিকে প্রবীণ গান্ধীবাদী নেতা আন্না হাজারের সমর্থনের পর আন্দোলনকারীদের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা চিঠিতে বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে সরকারের পতন হবে না; বরং সরকার আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে।
আন্না হাজারে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের আচরণ ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বাস ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীরা চাইলে সরকার যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
নিট ইস্যুতে বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত ছিল ভারতের সংসদ। লোকসভা ও রাজ্যসভা বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে একাধিকবার মুলতবি হয়। সংসদ ভবন চত্বরে বিরোধীদের পাশাপাশি পাল্টা বিক্ষোভ করে এনডিএ সদস্যরাও।
বিরোধীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় শিক্ষামন্ত্রীকে নিতে হবে। অন্যদিকে সরকারপক্ষের নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের যুবসমাজকে ব্যবহার করছে।
বিক্ষোভে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রও অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল ‘ডিসমিস প্রধান’ এবং ‘বরখাস্ত করো প্রধানকো’ লেখা ব্যানার।
এক পর্যায়ে সংসদ ভবন চত্বরে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। সিপিএমের সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসকে বিজেপি সদস্যের হাত থেকে একটি পোস্টার কেড়ে নিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তারক্ষীরা দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তারা সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে বিরোধীরা জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে কোনো আলোচনা হবে না। এর ফলে টানা চার দিন সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
মোদির আশ্বাস, রাহুলের পাল্টা আক্রমণ
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্টকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের নীতির কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাহুল শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি তুলে ধরেন—ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা, শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া।
যন্তর মন্তরে সংঘর্ষ, মেট্রো স্টেশন বন্ধ
বুধবার রাতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনকারীরা এ ঘটনার জন্য বিজেপি ও দিল্লি পুলিশকে দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ, আন্দোলন দুর্বল করতে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
বিক্ষোভের কারণে দিল্লি মেট্রোর ১৬টি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। মেট্রো স্টেশন বন্ধের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনও উদ্বেগ জানিয়েছে।